সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

সংখ্যালঘুরা শঙ্কায়, ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে : হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ

  • আপলোড সময় : ৩০-০১-২০২৬ ০৯:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-০১-২০২৬ ০৯:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন
সংখ্যালঘুরা শঙ্কায়, ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে : হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ভোট দিয়ে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে চায়। তবে কোনোভাবেই জীবন-জীবিকা-সম্পদ ও সম্ভ্রম নিয়ে তাদের শঙ্কা ও উদ্বেগ কাটছে না। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এমনটা জানিয়েছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আরও বলছে, এই শঙ্কা ও উদ্বেগ ভোট প্রদানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরুৎসাহিত করতে পারে। ‘চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে’ সামনে রেখে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এ কথা বলেছে। বৃহ¯পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ স¤পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হওয়ার দায় নিতে হবে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে। এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃঢ় ভূমিকা কামনা করা হয়। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বলেছে, নির্বাচনের আর মাত্র ১৪ দিন বাকি। এখনো গত বছরের মতো চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। এর মধ্যে হত্যার ঘটনা ১১টি। পরিষদ আরও বলেছে, সারা দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী প্রতিনিয়ত ভীতি এবং আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীরা নিজ অবস্থানে থেকে স্বাভাবিকভাবে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এ অবস্থায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের নামে যুক্ত হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট। এখানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পক্ষে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সরাসরি প্রচার চালাচ্ছে। এটিকে দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক এবং নিতান্তই পক্ষপাতদুষ্ট বলছে ঐক্য পরিষদ। অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের সংবিধান আজ চ্যালেঞ্জের মুখে বলে মন্তব্য করেছে ঐক্য পরিষদ। এটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমঅধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছে তারা। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এবং তার নিজ পছন্দ অনুযায়ী ভোট প্রদান একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলছে পরিষদ। এ অবস্থায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি জানায়। এগুলো হলো- প্রথমত, ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। প্রার্থী হওয়ার কারণে যেন কোনো রকম বাধার সম্মুখীন না হতে হয়। নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণে সমান সুযোগ যেন পায়, তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী প্রচারে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হোক। যদি কোনো প্রার্থী বা কোনো দল নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করে তবে তার শাস্তির বিধান রাখতে হবে। তৃতীয়ত, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু ও নৃগোষ্ঠীর নির্ভয়ে, নির্বিঘেœ ভোটদানের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী নিয়োগের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হোক। চতুর্থত, নির্বাচনের পূর্বাপর সময়কালে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ, আনসার ইত্যাদি মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবির নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা হোক। নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য একটি ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করতে হবে। পঞ্চমত, নির্বাচন কমিশনের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় গৃহীত যাবতীয় পদক্ষেপের বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে সম্যকভাবে অবহিত করতে হবে। ষষ্ঠত, নির্বাচনী প্রচারকাজে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ যেকোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। সপ্তমত, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, বিবৃতি, গুজব প্রচার বা এ ধরনের যাবতীয় প্রচার বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় অপরাধ গণ্য করতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স